‘আমি জগন্নাথের শের, তোকে আজ মেরেই ফেলবো’

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) এক শিক্ষার্থী, তার ছোট ভাই ও হবু স্ত্রীর ওপর হামলা এবং মারধরের অভিযোগ উঠেছে। জবির ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী ও শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য শের আলী এবং ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের শিক্ষার্থী আবিদ হাসান বাঁধন এই হামলা চালিয়েছেন বলে অভিযোগে জানা গেছে।

এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়ে সুষ্ঠু বিচার ও নিজের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী।

ভুক্তভোগী হাসানান আল আবিত (সাবায়েত) বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের (১৮ ব্যাচ) শিক্ষার্থী। অভিযুক্ত শের আলী ও আবিদ হাসান বাঁধন ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের (১৮ ব্যাচ) শিক্ষার্থী।

আরও পড়ুন

শাবিপ্রবি শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ ছাত্রদলের দুই নেতার বিরুদ্ধে

প্রক্টরের কাছে দেওয়া লিখিত অভিযোগে আবিত উল্লেখ করেন, গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১২টার পর তিনি তার ছোট ভাই, হবু স্ত্রী ও ছোট ভাইয়ের এক বন্ধুকে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন। একপর্যায়ে হবু স্ত্রীর সঙ্গে সামান্য মনোমালিন্য হলে তিনি ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে যেতে চান। তখন তার ছোট ভাই ও বন্ধু তাকে শান্ত করার চেষ্টা করছিলেন।

অভিযোগে বলা হয়, এ সময় মোটরসাইকেলে করে ঘটনাস্থলে এসে কোনো কিছু না জিজ্ঞেস করেই শের আলী তার (আবিত) ছোট ভাই ও বন্ধুকে মারধর শুরু করেন। তখন আবিতের হবু স্ত্রী তাদের থামানোর চেষ্টা করে জানান, তারা সবাই একই পরিবারের সদস্য। কিন্তু এরপরও হামলা থামেনি। বরং শের আলী অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

আরও পড়ুন

ছাত্রদল নেতাকে ছিনিয়ে নিতে থানায় হামলা, আহত ৫ পুলিশ

শোরগোল শুনে আবিত ঘটনাস্থলে গেলে তাকেও ধাক্কা দেওয়া হয় এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, একপর্যায়ে শের আলী পাশের একটি চায়ের দোকান থেকে পেরেকযুক্ত কাঠের তক্তা এনে তাকে মারধর করেন এবং বলেন, ‘আমি জগন্নাথের শের, তোকে আজ মেরেই ফেলবো।’

অভিযোগে আরও বলা হয়, এ ঘটনায় ১৮তম ব্যাচের শাওন, ২০তম ব্যাচের রাব্বিসহ আরও কয়েকজন অংশ নেন। হামলার সময় ভুক্তভোগীর হবু স্ত্রীকে মানসিকভাবে হেনস্তা করা হয় এবং তাকেও পেরেকযুক্ত তক্তা দিয়ে আঘাতের চেষ্টা করা হয়।

আবিত অভিযোগে জানান, ঘটনার পর তার হবু স্ত্রী মারাত্মক মানসিক ট্রমার মধ্যে রয়েছেন। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়াও চলছে। অভিযোগপত্রে তিনি বলেন, আমার ও আমার পরিবারের সঙ্গে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার এবং আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রক্টর মহোদয়ের কাছে আকুল আবেদন জানাচ্ছি।

আরও পড়ুন

গবেষণা অনুদান পেলেন জবি ছাত্রদল নেতা শাহরিয়ার হোসেন

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্রদল নেতা শের আলী বলেন, ‘ঘটনাটি নিয়ে আমি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বক্তব্য দিয়েছি। প্রশাসন সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করলেই প্রকৃত ঘটনা স্পষ্ট হবে। অভিযোগে যে হামলা ও হেনস্তার কথা বলা হয়েছে, তা সঠিক নয়। সাবায়েতই আমাকে ধাক্কা দিয়ে মারধর করেন। আমি তদন্তে সহযোগিতা করবো।’

ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা আবিদ হাসান বাঁধন বলেন, ‘বহিরাগত এক ছেলে ও এক মেয়ের পরিচয় জানতে চাইলে বাকবিতণ্ডা হয়। পরে সাবায়েত এসে শের আলীকে ধাক্কা দেন। আমরা পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করি। পরে ক্যাম্পাসের বাইরে উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয় এবং উভয় পক্ষই আঘাতপ্রাপ্ত হয়।’

এ বিষয়ে জবি শাখা ছাত্রদলের সদস্যসচিব মেহেদী হাসান হিমেল বলেন, সাংবাদিকদের মাধ্যমে বিষয়টি জেনেছি। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে যদি শের আলীর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে সংগঠনের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন

জবির ৬৪২ শিক্ষার্থী পেলেন ৯৬ লাখ টাকার গবেষণা অনুদান

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন বলেন, অভিযোগকারী লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন এবং সেটি প্রশাসন আমলে নিয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের ডেকে তাদের বক্তব্য নেওয়া হবে। এ ঘটনায় উপস্থিত অন্য ব্যক্তিদের বক্তব্যও শোনা হবে।

তিনি আরও বলেন, অভিযুক্ত শের আলীকে তলব করা হয়েছে। তার বক্তব্য শোনার পর বিষয়টি নিয়ে বসে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে প্রশাসন। প্রয়োজন হলে সিসিটিভি ফুটেজসহ অন্যান্য তথ্য-প্রমাণও পর্যালোচনা করা হবে।

টিএইচকিউ/এমএমকে 



from jagonews24.com | rss Feed

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Oops!
It seems there is something wrong with your internet connection. Please connect to the internet and start browsing again.
AdBlock Detected!
We have detected that you are using adblocking plugin in your browser.
The revenue we earn by the advertisements is used to manage this website, we request you to whitelist our website in your adblocking plugin.