প্রতারণার মামলায় আদালতে ‘প্রক্সি’ দিতে এসে ৩ দিনের রিমান্ডে বোন

অলৌকিক ক্ষমতার প্রাচীন ‘ম্যাগনেট পিলার’ পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে হংকং প্রবাসী এক ব্যবসায়ীর নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও জমিসহ প্রায় ৩৫ কোটি টাকার সম্পদ হাতিয়ে নিয়েছে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র। এই চক্রের এক নারী আসামির পরিবর্তে আদালতে ‘প্রক্সি’ বা ভুয়া আত্মসমর্পণ করতে এসে ধরা পড়ে এখন ৩ দিনের পুলিশি রিমান্ডে আছেন তার আপন বোন।

সোমবার (১৮ মে) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীনের আদালতে এই চাঞ্চল্যকর জালিয়াতির ঘটনাটি ফাঁস হয়।

এর আগে, গত ১২ মে মামলার এজাহারনামীয় তিন নম্বর আসামি শারমিন আক্তার একা ও তার মা লাইলী শাহনাজ খুশি আদালতে আত্মসমর্পণ করলে বিচারক তাদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠান। পরবর্তীতে উত্তরা পূর্ব থানার উপ-পরিদর্শক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মাহবুবুল আলম আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদন করলে বাদীপক্ষের আইনজীবীরা দাবি করেন যে, কাঠগড়ায় থাকা নারী আসলে প্রকৃত আসামি একা নন।

শুনানির একপর্যায়ে আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. আলমগীর হোসাইন নিজের ভুল স্বীকার করে আদালতকে জানান, এই নারী প্রকৃত আসামির বোন এবং তিনি মূলত বোনের হয়ে প্রক্সি দিতে এসেছিলেন। বিচার ব্যবস্থা ও আদালতের সঙ্গে এমন ধৃষ্টতাপূর্ণ প্রতারণায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বিচারক একে ‘গর্হিত অপরাধ’ বলে আখ্যা দেন। সংশ্লিষ্ট আইনজীবীর সনদ বাতিল হওয়া দরকার বলে মন্তব্য করেন। পরবর্তীতে ওই ভুয়া আসামির প্রকৃত পরিচয় নিশ্চিত করতে তার এনআইডি, পাসপোর্ট ও আঙুলের ছাপ সংগ্রহের জন্য আদালত তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

মামলার নথি ও ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী আজিজুল আলমের অভিযোগ থেকে জানা যায়, দীর্ঘ ৩০ বছর হংকংয়ে কাটানো এই ব্যবসায়ী ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে মিজান নামের এক ব্যক্তির মাধ্যমে মাজহারুল ইসলাম সোহেল ফকির নামের এক কথিত পীরের চক্রের খপ্পরে পড়েন। চক্রটি তাকে বিশ্বাস করায় যে, তাদের কাছে একটি অলৌকিক ম্যাগনেট পিলার আছে, যা বিদেশে ১০০ বিলিয়ন ডলারে বিক্রি করা সম্ভব। প্রধান আসামি সোহেল ফকির তার সুন্নতি লেবাস ও চটকদার কথার জাদুতে দ্রুত ব্যবসায়ীর বিশ্বাস অর্জন করেন এবং পরবর্তীতে তাকে অফিসে ডেকে নিয়ে মিষ্টি ও পানীয়র সঙ্গে নেশাজাতীয় দ্রব্য খাওয়ান। এতে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। বেশকিছু দিন তিনি হিপনোটাইজড বা সম্মোহিত অবস্থায় ছিলেন তিনি। এরই মধ্যে ‘হযরত তৈয়ব আহম্মেদ চিশতী’ নামে জিনের বাদশা সেজে ফোন করে ১০০ বিলিয়ন ডলারের মালিক হওয়াসহ দামি গাড়ি-বাড়ি ও আমেরিকার ভিসার প্রলোভন দেখানো হয়।

এভাবে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে ২০২৪ সালের জুন থেকে ২০২৫ সালের মে মাস পর্যন্ত কয়েক দফায় ব্যবসায়ী আজিজুল আলমের কাছ থেকে নগদ ১৫ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়। পাশাপাশি ভুক্তভোগীর মা ও স্ত্রীর ২০০ ভরি স্বর্ণালংকার (বাজারমূল্য প্রায় ৫ কোটি টাকা) এবং জোরপূর্বক দলিলে স্বাক্ষর নিয়ে উত্তরখান এলাকায় থাকা ২৭.১৫ কাঠা জমি আত্মসাৎ করে এই চক্র। এই জমির বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ১৪ থেকে ১৬ কোটি টাকা।

পরে কিছুটা সুস্থ হওয়ার পর ব্যবসায়ী আজিজুল আলম গত মাসে উত্তরা পূর্ব থানায় সোহেল ফকির, তার স্ত্রী শারমিন আক্তার একা, শাশুড়ি লাইলী শাহনাজ খুশিসহ ২৪ জনের বিরুদ্ধে একটি প্রতারণার মামলা করেন। পুলিশ জানায়, এই চক্রের অন্যতম সদস্য এ আর রাসেলকে রিমান্ডে নিয়ে এরই মধ্যে চাঞ্চল্যকর অনেক তথ্য পাওয়া গেছে। বাকি আসামিদের ধরতেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এমডিএএ/এমএমকে



from jagonews24.com | rss Feed

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Oops!
It seems there is something wrong with your internet connection. Please connect to the internet and start browsing again.
AdBlock Detected!
We have detected that you are using adblocking plugin in your browser.
The revenue we earn by the advertisements is used to manage this website, we request you to whitelist our website in your adblocking plugin.