দেড় মাস পার না হতেই বিএনপি মানুষের গণরায়ের সঙ্গে প্রতারণা শুরু করেছে

নির্বাচনের দেড় মাস পার না হতেই বিএনপি মানুষের গণরায়ের সঙ্গে প্রতারণা শুরু করেছে বলে মন্তব্য করেছেন এনসিপির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম।

তিনি বলেন, আজ যদি আবার জাতীয় নির্বাচন হয়, তবে দেশের অনেক আসনের মানুষ তাদের আগের সিদ্ধান্ত নিয়ে অনুশোচনা করবেন। অনেকেই হয়তো তাদের ভোটের অবস্থান বদলে ফেলবেন।

সোমবার (৬ এপ্রিল) বিকেলে বগুড়া সদরের বাঘোপাড়ায় এক স্কুল মাঠে আয়োজিত গণসমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বগুড়া-৬ (সদর) আসনের উপনির্বাচনে ১১-দলীয় ঐক্যজোটের প্রার্থী ও জামায়াত নেতা আবিদুর রহমানের পক্ষে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

বগুড়া-৬ আসনটি ছেড়ে দেওয়ায় তারেক রহমানের সমালোচনা করে সারজিস আলম বলেন, এখানকার মানুষ মন খুলে তাদের উত্তরসূরি তারেক রহমানকে ভোট দিয়েছিলেন। কিন্তু দুটি আসনের মধ্যে একটি বেছে নেওয়ার সময় তিনি তার পূর্বসূরিদের জন্মভূমির আসন বগুড়াকে ছেড়ে দিয়েছেন। এই একটি কারণেই এই আসনের মানুষের এখন অন্য মার্কায় ভোট দিয়ে বিজয়ী হওয়ার জন্য যথেষ্ট।

বিএনপি তাদের ঘোষিত ৩১ দফা ও সংবিধান সংস্কারের প্রতিশ্রুতির সঙ্গে প্রতারণা করছে উল্লেখ করে সারজিস বলেন, যারা কাগজে-কলমে এক কথা বলে আর বাস্তবে অন্য কথা বলে, তাদের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। ঋণখেলাপিদের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক পদে বসিয়ে তারা কীভাবে দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধার করবে, সেটিও বড় প্রশ্ন।

আরও পড়ুন
সংরক্ষিত নারী আসনে এনসিপি থেকে আলোচনায় যারা 
সংরক্ষিত নারী আসনে জামায়াতের প্রার্থী চূড়ান্ত, ঘোষণা শিগগির 

ভোট ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অভিযোগ তুলে উপস্থিত জনতার উদ্দেশে তিনি বলেন, তারা ভোট ইঞ্জিনিয়ারিং করেছে এটা যেমন সত্য, আমরা করতে দিয়েছি সেটা আমাদের দুর্বলতা। কিন্তু ভবিষ্যতে আর কোনো ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সুযোগ দেওয়া যাবে না। জান চলে যাবে, তবু ভোট গণনা শেষ করে ফলাফল শিটে স্বাক্ষর নিয়ে তবেই কেন্দ্র ছাড়তে হবে।

প্রশাসনকে চাটুকারিতা ছাড়ার আহ্বান জানিয়ে সারজিস আলম বলেন, আপনারা কোনো দলের চাটুকার হবেন না, রাষ্ট্রের কর্মচারী হোন। বাংলাদেশ যদি আবার ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের দিকে ফিরে যায়, তবে শুধু বিএনপি নয়, পুরো দেশের মানুষকে ভুগতে হবে এবং কেউ রেহাই পাবে না।

উপনির্বাচনে দাঁড়িপাল্লা মার্কায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, খালি নেতা ভালো হলে হবে না, কর্মীদেরও ভালো হতে হবে। যে নেতার কর্মীরা লুটপাট, চাঁদাবাজি আর দখলদারত্বে লিপ্ত, সেই নেতা দিয়ে দেশের কোনো লাভ নেই।

সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। বিশেষ অতিথি হিসেবে এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সংগঠক ডা. মাহমুদা আলম মিতু বক্তব্য দেন। সমাবেশ শেষে জামায়াত নেতা আবিদুর রহমানকে জোটের প্রার্থী হিসেবে সবার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়।

এলবি/কেএসআর



from jagonews24.com | rss Feed

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Oops!
It seems there is something wrong with your internet connection. Please connect to the internet and start browsing again.
AdBlock Detected!
We have detected that you are using adblocking plugin in your browser.
The revenue we earn by the advertisements is used to manage this website, we request you to whitelist our website in your adblocking plugin.