ক্রেতাদের আস্থা ধরে রাখতে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি চায় বিজিএমইএ

তৈরি পোশাক খাতের উৎপাদন অব্যাহত রাখা, খরচ নিয়ন্ত্রণ এবং আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের আস্থা ধরে রাখতে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ চায় বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)।

ফিলিং স্টেশন থেকে দ্রুত ডিজেল সরবরাহ, ছোট ও মাঝারি শিল্পের জন্য নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সংযোগ, অতিরিক্ত এফএসআরইউ স্থাপন এবং ইভিসি মিটার স্থাপনের প্রক্রিয়া সহজ করার  দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ এবং প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের সঙ্গে এক বৈঠকে বিজিএমইএ’র সভাপতি মাহমুদ হাসান খান এ দাবি তুলে ধরেন।

মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী বিজিএমইএ প্রতিনিধি দলের প্রস্তাবনাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে শোনেন। দেশের অর্থনীতিতে তৈরি পোশাক শিল্পের অবদানের কথা বিবেচনা করে সংকট সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দেন তারা।

বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, নির্বাচন পরবর্তী সময়ে ক্রেতাদের আস্থা ফিরে এলেও মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজার পুনরায় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। বিশেষ করে প্রতিবেশি দেশগুলো জ্বালানি নিরাপত্তায় এগিয়ে থাকার কারণে বাংলাদেশের পোশাক শিল্প এক নাজুক পরিস্থিতিতে পড়েছে।

বিজিএমইএ সভাপতি জানান, চাহিদা মতো গ্যাস ও বিদ্যুৎ না পাওয়ার কারণে বর্তমানে কারখানাগুলোতে উৎপাদন সক্ষমতা ২৫-৩০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, বিশেষ করে গাজীপুর ও আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে লোডশেডিংয়ের বিপরীতে জেনারেটর চালানোর জন্য পর্যাপ্ত ডিজেল না পাওয়ায় উৎপাদন ও পণ্য শিপমেন্ট মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। আবার জ্বালানি সংকটের কারণে কাঁচামালের মূল্য বৃদ্ধি ও পণ্য পরিবহনের খরচ বেড়ে যাওয়ায় সামগ্রিক উৎপাদন ব্যয়ও বেড়ে গেছে।

এমন পরিস্থিতিতে বিজিএমইএ প্রতিনিধিদল সংকট মোকাবিলায় কিছু সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা উত্থাপন করে। সেগুলো হলো

জরুরি জ্বালানি সরবরাহ
তৈরি পোশাক কারখানাসমূহে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় ফিলিং স্টেশন থেকে দ্রুত ডিজেল সরবরাহের নিশ্চয়তা প্রদান।

গ্যাস সংযোগ ও সমবণ্টন
বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি শিল্পের জন্য (যাদের বয়লার সক্ষমতা ৩০০-৫০০ কেজি) জরুরি গ্যাস সংযোগ প্রদান এবং ঢাকার পার্শ্ববর্তী সব শিল্প অঞ্চলে সমতার ভিত্তিতে গ্যাস সরবরাহের দাবি জানানো হয়।

অবকাঠামো উন্নয়ন ও অটোমেশন
দ্রুততম সময়ে অন্তত ২টি অতিরিক্ত এফএসআরইউ (FSRU) স্থাপন এবং শিল্পখাতে ইভিসি মিটার স্থাপন প্রক্রিয়া সহজতর করার অনুরোধ করা হয়।

শুল্ক ও কর হ্রাস
জ্বালানির আমদানি করা ও ভোক্তা পর্যায়ে সব প্রকার ট্যাক্স ও ভ্যাট প্রত্যাহার করে উৎপাদন খরচ কমানোর প্রস্তাব করা হয়।

বৈঠকে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পরিবেশবান্ধব শিল্পায়ন নিশ্চিত করতে পোশাক শিল্পে সোলার পিভি সিস্টেমের সরঞ্জামাদি আমদানিতে বিশেষ শুল্ক রেয়াতি সুবিধার আবেদন জানানো হয়েছে। বিজিএমইএ’র পক্ষ থেকে সোলার প্যানেল, ইনভার্টার, ডিসি ক্যাবল এবং বিইএসএসের মতো অত্যাবশ্যকীয় যন্ত্রপাতির ওপর বিদ্যমান উচ্চ শুল্ক (২৮.৭৩% থেকে ৬১.৮০%) কমিয়ে এক শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাব দেওয়া হয়।

আইএইচও/এমএমকে



from jagonews24.com | rss Feed

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Oops!
It seems there is something wrong with your internet connection. Please connect to the internet and start browsing again.
AdBlock Detected!
We have detected that you are using adblocking plugin in your browser.
The revenue we earn by the advertisements is used to manage this website, we request you to whitelist our website in your adblocking plugin.