কর্মচারীর ওপর খাবার ছুড়ে মারা নিয়ে জাবিতে উত্তেজনা, সব দোকান বন্ধ

খাবারে মাছি থাকায় তা দোকান কর্মচারীর ওপর ছুড়ে মারার অভিযোগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জাকসু) দুই নেতার বিচার দাবি করেছেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা।

তারা এ দাবিতে ক্যাম্পাসের বটতলা এলাকার সব খাবার দোকান বন্ধ করে দিয়েছেন। বুধবার (২২ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৭টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

শিক্ষার্থীদের সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাতে ক্যাম্পাসের মাঝবটের হাবিবের দোকানে খাবার খেতে যান জাকসুর স্বাস্থ্য ও খাদ্য নিরাপত্তাবিষয়ক সম্পাদক হুসনী মোবারক ও কার্যকরী সদস্য মোহাম্মদ আলী চিশতী। এসময় তাদের দেওয়া হালিমে মাছি পেয়ে হুসনী মোবারক ক্ষিপ্ত হয়ে ওই হালিম জোর করে দোকানের কর্মচারীকে খাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে খাবারের বাটি বাইরে ছুড়ে মারেন। এতে গরম হালিমের কিছু অংশ দোকান কর্মচারীর গায়ে পড়ে।

ঘটনাটি আজ জানাজানি হলে বিচারের দাবিতে কয়েকজন শিক্ষার্থী সন্ধ্যায় বটতলার দোকানগুলো বন্ধ করান। এর কিছুক্ষণ পর ঘটনাস্থলে জাকসুর কার্যকরী সদস্য চিশতী আসলে তার সঙ্গে দোকান বন্ধ করতে বলা শিক্ষার্থীদের বাগ্‌বিতণ্ডার সৃষ্টি হয়। বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের দাবি, ভুক্তভুগী কর্মচারীর প্রতি সমর্থন জানিয়ে এবং যাতে আর কোনো কর্মচারীর সঙ্গে এরকম ঘটনা না ঘটে এজন্য তারা দোকান বন্ধ করিয়েছেন।

শিক্ষার্থীরা জানান, সন্ধ্যায় ইতিহাস বিভাগের ৫০তম আবর্তনের ও মওলানা ভাসানী হলের আবাসিক শিক্ষার্থী তূর্য কীর্তনীয় বটতলার মওলানা ভাসানী হলের অধীনস্থ দোকানগুলো বন্ধ করতে বলেন। এসময় কয়েকজন মালিক দোকান বন্ধ করতে না চাইলে তিনি তাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করতে বাধ্য হবেন- এমনটা বলেন।

বটতলার একজন দোকানদার বলেন, ‘কয়েকজন ছাত্র এসে দোকান বন্ধ করতে বলেন। পরে আমরা দোকান বন্ধ করি।’

যোগাযোগ করা হলে হুসনী মোবারক বলেন, ‘গতকাল (মঙ্গলবার) রাতে দোকানে প্রবেশের সময়ই দেখি অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার প্রস্তুত করা হচ্ছে। কর্মচারীরা বড় নখ ও অপরিষ্কার হাতে সালাদ মাখাচ্ছিলেন, যা দেখে তাদের সতর্ক করি। পরবর্তীতে খাবার অর্ডার করে হালিম খাওয়ার সময় লক্ষ্য করি এতে একটি বড় আকারের নীল রঙের মাছি রয়েছে, যা দেখে আমি রাগান্বিত হয়ে যাই। এরপর একজন কর্মচারীকে ডেকে বিষয়টি দেখাই এবং শিক্ষার্থীদের এমন নিম্নমানের খাবার পরিবেশন না করার বিষয়ে কঠোরভাবে সতর্ক করি। পরে হালিমের বাটি বাইরে ফেলে দিই। এসময় সামনে থাকা একটি কড়াইয়ের সঙ্গে বাটিটি লাগার কারণে ছিটকে কিছু হালিম একজন কর্মচারীর শরীরে পড়ে। আমি কারও গায়ে গরম হালিম নিক্ষেপ করিনি। কারণ হালিমটি অত্যন্ত গরম ছিল এবং তা নিক্ষেপ করা হলে পুড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকতো, যা ঘটেনি।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘আজকের ঘটনায় আমরা দুই পক্ষকে অনুরোধ করেছি যাতে ক্যাম্পাসে কোনো অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়। শিক্ষার্থীরা আমাদের কথা শুনেছেন। আগামীকাল বৃহস্পতিবার দুই পক্ষকে নিয়ে বিকেল ৩টায় সিনেট হলে বসে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং প্রক্টরের উপস্থিতিতে বিষয়টি সমাধান করা হবে।’

এমআরএইচপি/একিউএফ



from jagonews24.com | rss Feed

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Oops!
It seems there is something wrong with your internet connection. Please connect to the internet and start browsing again.
AdBlock Detected!
We have detected that you are using adblocking plugin in your browser.
The revenue we earn by the advertisements is used to manage this website, we request you to whitelist our website in your adblocking plugin.