এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে (এলজিইডি) প্রধান প্রকৌশলী পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেয়েছেন আব্দুর রশীদ মিয়া। গত ২৪ মার্চ তাকে এক বছরের জন্য নিয়োগ দিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে চলতি দায়িত্বে এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী ছিলেন তিনি। সেসময় ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ মাথায় নিয়ে অবসরে যান।

এলজিইডি সূত্র বলছে, প্রকৌশলী রশীদ মিয়ার বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির কয়েকটি অভিযোগের তদন্ত চলমান। অথচ তাকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়েছে সরকার। তার এ নিয়োগে ক্ষুব্ধ অধিদপ্তরের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারা।

তারা বলছেন, আব্দুর রশীদ মিয়া আওয়ামী লীগ আমলেও সুবিধাভোগী ছিলেন। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেও তিনি পদোন্নতি এবং এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী পদ বাগিয়ে নিয়েছেন। সব আমলে সুবিধাভোগী একজনকে নতুন সরকার ফের এ পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়ায় যোগ্য কর্মকর্তারা বঞ্চিত হয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২৩ সাল থেকে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তার বিরুদ্ধে তদন্ত করছে। ২০২৪ সালে রাজনৈতিক পট-পরিবর্তনের পর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী থেকে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি পান তিনি। তার অভিযোগের কোনো সুরাহা না হলেও অন্তর্বর্তী সরকার তাকে চলতি দায়িত্বে প্রধান প্রকৌশলী পদে বসায়। এরপর বর্তমান সরকার এসে তাকে আবার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিলো।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এলজিইডির একজন প্রকৌশলী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ভিন্নমতের প্রকৌশলীরা সবসময়ই বঞ্চিত ছিলেন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বিএনপি ট্যাগ দিয়ে তাদের গুরুত্বহীন পদ দেওয়া হতো। অথচ সেই আওয়ামী লীগ আমলেও রশীদ মিয়া সুবিধাভোগী। অন্তর্বর্তী সরকারও তাকে পুরস্কার দিয়েছে। নতুন সরকার অবসর ভাঙিয়ে ফের তাকে চিফ ইঞ্জিনিয়ার পদে বসালো।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে প্রধান প্রকৌশলী আব্দুর রশীদ মিয়া জাগো নিউজকে বলেন, ‘অসত্য অভিযোগ সামনে এনে আমাকে হেয় করার চেষ্টা করছে একটি মহল। সরকার সব দিক যাচাই করেই আমাকে নিয়োগ দিয়েছে। কারা কি বলছেন, তা নিয়ে আমি ভাবছি না। সরকার দায়িত্ব দিয়েছে, কাজ করবো। আবার সরকার যখন বলবে চলে যাবো।’

এদিকে, রশীদ মিয়ার অনিয়ম-দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ নিষ্পত্তির আগেই ফের তাকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়ায় দুর্নীতিকে উৎসাহিত করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান জাগো নিউজকে বলেন, এলজিইডি এমনিতেই দুর্নীতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠান। এখানে বর্তমান কর্মকর্তাদের মধ্যে দুর্নীতিমুক্ত কাউকে নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন।

তিনি বলেন, যদি এমন হতো যে তার চেয়ে যোগ্য আর কেউ নেই অথবা দুর্নীতির অভিযোগ ছাড়া কাউকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না, তাহলে ভিন্ন কথা ছিল। কিন্তু দুটি মানদণ্ডেই এ নিয়োগ অগ্রহণযোগ্য। প্রথমত, তিনি অবসরে গেছেন। অবসরপ্রাপ্ত এক কর্মকর্তাকে এনে কেন নিয়োগ দিতে হবে? সেখানে কি আর যোগ্য কেউ নেই? দ্বিতীয়ত, তিনি দুর্নীতিতে অভিযুক্ত। এ কারণে এ নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়।

এএএইচ/এনএইচআর



from jagonews24.com | rss Feed

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Oops!
It seems there is something wrong with your internet connection. Please connect to the internet and start browsing again.
AdBlock Detected!
We have detected that you are using adblocking plugin in your browser.
The revenue we earn by the advertisements is used to manage this website, we request you to whitelist our website in your adblocking plugin.