প্রথম ইফতারে পসরা সাজিয়েছে মহাখালীর রেস্তোরাঁগুলো

পবিত্র রমজানের প্রথম দিন মহাখালী, গুলশানের ইফতার বাজার জমে উঠেছে। ফুটপাতের দোকান থেকে অভিজাত রেস্তোরাঁগুলোতে হাঁকডাক দিয়ে বিক্রি হচ্ছে হরেক রকম ইফতার। সব রেস্তোরাঁ ও দোকানের সামনেই ইফতার সামগ্রীর পসরা সাজানো হয়েছে। পছন্দের ইফতার সামগ্রী কিনছেন ক্রেতারা।

এদিকে বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৩টার পর থেকেই ইফতার কিনতে বের হয়েছেন অনেক রোজাদার। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা হতে ক্রেতাদের ভিড় আরও বাড়তে থাকে। তবে ক্রমেই ইফতার সামগ্রীর দাম বাড়ায় অনেক ক্রেতা হতাশা প্রকাশ করেছেন।

ক্রেতারা জানান, আজ রমজানের প্রথম দিন। সবাই চেষ্টা করে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ইফতার করতে। সেজন্যই বাইরের দোকান-রেস্তোরাঁগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় জমেছে। অনেকে আবার বাসায় তৈরি ইফতার পছন্দ করেন।

jagonews24

তবে বিক্রেতারা জানান, নিরাপদ ইফতার তৈরিতে সচেতন দোকানিরা। এ কারণে ভালো রেস্তোরাঁগুলোতে ইফতারের চাহিদা বেশি। তবে রেস্তোরাঁগুলোতে ইফতার পার্টির প্রচলন শুরু হবে আরও সপ্তাহখানেক পর থেকে।

মহাখালীর মধ্যে ওয়্যারলেস এলাকা ইফতারের জন্য বেশ জমজমাট। এখানে প্রায় ১০টি বড় রেস্তোরাঁয় ইফতার বিক্রি করা হয়। বিকেল ৩টায় সরেজমিনে দেখা যায়, মহাখালীর ঘরোয়া হোটেল, আজওয়া, নবাবী ভোজসহ সব কটি রেস্তোরাঁর সামনে হরেক রকমের ইফতার সামগ্রীর পসরা সাজিয়ে রাখা হয়েছে। দরদাম করে কেনাকাটা করছেন ক্রেতারা। তবে অধিকাংশ দোকানে ইফতার পণ্যের দাম নির্ধারিত এবং পণ্যের ওপর ট্যাগ লাগানো। ফলে যার যা পছন্দ, দরদাম করা ছাড়াই কিনে নিচ্ছেন।

jagonews24

খুবই পরিচ্ছন্ন পরিবেশে ইফতার সামগ্রী বিক্রি করে আজোয়া বেক অ্যান্ড পেস্ট্রি। ওয়্যারলেস গেটের এ দোকানটির সামনে ইফতার সামগ্রীর পসরায় সবচেয়ে বেশি ভিড় দেখা গেছে। এখানে চিকেন শর্মা ১০০ টাকা, চিকেন বল ৪০ টাকা, অনথন ২০ টাকা, স্প্রিং রোল ২০ টাকা, কিমা পরোটা ৮০ টাকা, চিকেন জালি কাবাব ৪০ টাকা, চিকেন সাসলিক ৭০ টাকা, চিকেন কোপ্তা ৪০ টাকাসহ বিভিন্ন রকমের ইফতার বিক্রি করছে।

এ দোকানের বিক্রয়কর্মী ফয়সাল আহমেদ বলেন, সাধারণত তাদের দোকানে বেকারি পণ্য বিক্রি হয়। কিন্তু রমজানে ইফতার সামগ্রী বেশি বিক্রি হয়। আজ দুপুর ৩টার পর থেকেই দোকানে ক্রেতার ভিড় বাড়ছে। আশাকরি সন্ধ্যার আগেই সব বিক্রি করা সম্ভব হবে।

jagonews24

বনানীর একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন রিয়াজুল ইসলাম। পরিবার নিয়ে থাকেন মহাখালীর ওয়্যারলেস সংলগ্ন একটি ভাড়া বাসায়। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে অফিস শেষ করে ওয়্যারলেসে ফেরেন। বাসায় ঢোকার আগে পরিবারের সদস্যদের জন্য কেনেন ইফতার সামগ্রী।

রিয়াজুল ইসলাম বলেন, তার বাসায় বৃদ্ধ বাবা-মা, স্ত্রী ও সন্তানেরা আছেন। তাদের জন্য বাইরে থেকে নানান সাধের ইফতার কিনেছি। বাসায়ও কয়েক ধরনের ইফতার তৈরি করেছে। পরিবারের সঙ্গে ইফতার করবো, এজন্য আগেই বাসায় চলে আসছে। তবে ইফতারে যেসব খাবার সাধারণত তৈরি বা বিক্রি করা হয়, সেগুলোর দাম ক্রমেই বাড়ছে বলে জানান তিনি।

ওয়্যারলেসের আরেকটি জনপ্রিয় খাবার দোকান ঘরোয়া হোটেল। এ হোটেলের সামনেও হারেক রকমের পণ্যের পসরা বসেছে। এখানে সর্বনিম্ন ৩০০ টাকা থেকে ১২০০ টাকা পর্যন্ত প্যাকেজ হালিম বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া রেস্তোরাঁটিতে মুরগির রোস্ট, জিলাপি, খাসির মাংস, পেঁয়াজু, বেগুনি, আলুর চপসহ অন্যান্য ইফতার পণ্য রয়েছে।

jagonews24

ঘরোয়ার ব্যবস্থাপক কালাম বলেন, রমজানের দিনে ও রাতে রেস্তোরাঁয় ইফতার ছাড়া অন্য কোনো খাবার তেমন বিক্রি হয় না। তাই ইফতারের আইটেমে বেশি গুরুত্ব দিয়েছি। আশাকরি পুরো রমজানে বেচাবিক্রি ভালো হবে।

মহাখালীর ব্র্যাক ইউনিভির্সিটির পুরান ভবনের পাশেই দূরবীন বাংলা রেস্তোরাঁ। মহাখালীর মধ্যে এ রেস্তোরাঁর পরিবেশ সবচেয়ে বেশি সুন্দর দেখা গেছে। এখানে ইফতার পণ্যের সঙ্গে ব্যতিক্রম হিসেবে স্পেশাল শাহি টুকরা, কাস্মীরী নান, কিমা পরোটা, বাটার নান, দুধ নান, বেবি সুইটসসহ বিভিন্ন রকমের মিষ্টি খাবার বিক্রি হতে দেখা গেছে।

গুলশান-১ এর ১৯, ২১ ও ২২ নম্বর রোডে বেশ কিছু রেস্তোরাঁ রয়েছে। এর মধ্যে ১৯ ও ২১ নম্বর রোডের ফুটপাতে সবচেয়ে বেশি ইফতার সামগ্রী বিক্রি হচ্ছে। এসব দোকানে ক্রেতাদের উপস্থিতিও অনেক বেশি। তবে গুলশানের বড় রেস্তোরাঁগুলো ভিড় দেখা যায়নি।

jagonews24

২১ নম্বর রোডের ফুটপাতের দোকান থেকে ছোলা, মুড়ি, জিলাপি, বেগুনিসহ অন্যান্য ইফতার কেনেন নাভানা টাওয়ারের দোকান কর্মচারী নাজিবুল ইসলাম। তিনি বলেন, তিনি যে দোকানে কাজ করেন, সে দোকান মালিকের স্ত্রী বাসা থেকে হালিম, সেমাই, খেজুরসহ বিভিন্ন ধরনের ফল পাঠিয়েছেন। এর পাশাপাশি আরও কিছু কিনলাম। প্রথম রমজানের দিনটা ভালোই কাটছে।

গুলশান-২৩ নম্বর রোডের একটি বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করেন রাজন মজুমদার। তিনিও বাইরের একটি রেস্তোরাঁ থেকে ইফতার কিনে বাসায় ফিরছিলেন। ইফতারে কী কিনলেন, তা জানতে চাইলে রাজন বলেন, ‘আজ রোজার প্রথম দিন। ঘরে অনেক সাধের ইফতার তৈরি করেছি। কিন্তু উপকরণ না থাকায় ঘরে জিলাপি করতে পারিনি। তাই দোকান থেকে জিলাপি কিনেছি। এর সঙ্গে কয়েক ধরনের রসালো ফলও কিনেছি।’

এমএমএ/এমআরএম



from jagonews24.com | rss Feed

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Oops!
It seems there is something wrong with your internet connection. Please connect to the internet and start browsing again.
AdBlock Detected!
We have detected that you are using adblocking plugin in your browser.
The revenue we earn by the advertisements is used to manage this website, we request you to whitelist our website in your adblocking plugin.