বিনিয়োগে ৫ বাধা, চার সংস্কারেই সৃষ্টি হবে ৩৭ লাখ কর্মসংস্থান

২০২৫ সালে বাংলাদেশ চারটি খাতে প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়নের মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে এবং লাখ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারে। এর মাধ্যমে সৃষ্টি হতে পারে ৩৭ লাখ নতুন কর্মসংস্থান। তবে দেশে বিনিয়োগের পথে বড় বাধা পাঁচটি। আগে এই বাধাগুলো দূর করতে হবে। এগুলো হলো- বিদ্যুতের সমস্যা, অর্থায়নের সীমিত সুযোগ, দুর্নীতি, অনানুষ্ঠানিক খাতের আধিক্য ও উচ্চ করহার।

বিশ্বব্যাংকের ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশনের (আইএফসি) কান্ট্রি প্রাইভেট সেক্টর ডায়াগনস্টিক (সিপিএসডি)- শীর্ষক এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে। আইএফআইসি মূলত বিশ্বব্যাংকের বেসরকারি খাত বিষয়ক প্রতিষ্ঠান। মঙ্গলবার (৮ এপ্রিল) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত চারদিনের বিনিয়োগ সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।

আইএফসির প্রতিবেদন প্রকাশের পর অনুষ্ঠানে প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী ও বিশ্বব্যাংকের অন্তর্বর্তীকালীন কান্ট্রি ডিরেক্টর গেইল মার্টিন। প্যানেল আলোচনা দুটি সঞ্চালনা করেন আইএফসির বাংলাদেশ, ভুটান ও নেপালের কান্ট্রি ম্যানেজার মার্টিন হোল্টম্যান।

আইএফসি প্রতিবেদনে আরও উঠে এসেছে, দেশের কৌশলগত চারটি খাতে প্রয়োজনীয় সংস্কার করলে ৩৭ লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা সম্ভব হবে। খাত চারটি হলো আবাসন, পেইন্ট অ্যান্ড ডাইস, তৈরি পোশাকশিল্প ও ডিজিটাল আর্থিক সেবা। এই খাতে বিনিয়োগ আকর্ষণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) মর্যাদা থেকে উত্তীর্ণ হওয়ার পরে প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থাকা এবং দেশীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার জন্য সরকারের তরফ থেকে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া যায় তার সুনির্দিষ্ট, স্বল্পমেয়াদী পদক্ষেপের রূপরেখা দেওয়া হয়েছে।

নির্দিষ্ট পদক্ষেপগুলোর মধ্যে রয়েছে তৈরি পোশাক খাতের উৎপাদন আরও আধুনিক ও সময়োপযোগী করা, সবুজায়নের ওপর জোর দেওয়া, টেকসই উন্নয়নসহ শ্রমের মান নিশ্চিত করা, ডিজিটাল ম্যাপিং এবং জমি নিবন্ধনের জন্য নিয়ন্ত্রক কাঠামো শক্তিশালী করা, মোবাইলে আর্থিক পরিষেবা শক্তিশালী করার জন্য প্রোটোকল প্রতিষ্ঠা করা, পাইকারি লেনদেন সহজ করা এবং ব্যবসার জন্য ডিজিটাল পেমেন্ট আরও সহজলভ্য করা। আইএফসির প্রতিবেদনে বিদেশি বিনিয়োগ জরিপ ২০২৪-এর বরাত দিয়ে বলা হয়, এ দেশে বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে রেগুলেটরি বা নিয়ন্ত্রণমূলক সমস্যা রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আমলাতান্ত্রিক দীর্ঘসূত্রতা, নীতির ঘন ঘন পরিবর্তন, সুশাসনের অভাব, আইনের জটিলতা, প্রাতিষ্ঠানিক অদক্ষতা, সমন্বয়ের অভাব ইত্যাদি।

বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন বলেন, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের বাইন্ডিংগুলি এমন নীতি ও কৌশল গঠনের জন্য মূল্যবান দিকনির্দেশনা দেয় যা বেসরকারি খাতের নেতৃত্বে প্রবৃদ্ধিকে উৎসাহিত করে, আন্তর্জাতিক সরকার আরও অনুকূল ব্যবসায়িক পরিবেশ তৈরি করে এবং উদীয়মান শিল্পগুলোকে সমর্থন করে প্রবৃদ্ধি বাড়াতে নিবেদিতপ্রাণ হয়। এতে শেষ পর্যন্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টির পথ তৈরি হয়।

তিনি আরও বলেন, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের মূল্যবান কৌশল ও নীতিগুলো প্রবৃদ্ধি অর্জনে উৎসাহী করবে। বাংলাদেশে টেকসই অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য এই ভিত্তিগুলো অপরিহার্য। এখন আমাদের অন্তবর্তীকালীন সরকারের অন্যতম লক্ষ্য হলো বেসরকারি খাতের ব্যবসার পরিবেশ সৃষ্টি করা। এর অর্থ হলো যত বেশি সম্ভব কর্মসংস্থান বাড়ানো। আইএফসির এসব সুপারিশ সরকারের কাজে সহায়ক হবে। দেশের উদীয়মান শিল্পকে আরও এগিয়ে নেবো।

আইএফসি প্রতিবেদনে আরও উঠে এসেছে, স্বল্পোন্নত দেশ বা এলডিসি থেকে উত্তরণের পর তাৎক্ষণিকভাবে বাংলাদেশি রপ্তানি পণ্যে শুল্কহার বেড়ে যাবে। কারণ, তখন পণ্য রপ্তানিতে বর্তমান বাজার সুবিধা থাকবে না। বিশেষ করে ইউরোপের বাজারে সবচেয়ে বেশি হারে শুল্ক বাড়বে। ফলে প্রধান বাজারগুলোয় প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখতে হলে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির পাশাপাশি পরিবেশ ও শ্রমসংক্রান্ত আন্তর্জাতিক মানদণ্ড পরিপালনে বিনিয়োগ করতে হবে।

এমওএস/এএমএ



from jagonews24.com | rss Feed

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Oops!
It seems there is something wrong with your internet connection. Please connect to the internet and start browsing again.
AdBlock Detected!
We have detected that you are using adblocking plugin in your browser.
The revenue we earn by the advertisements is used to manage this website, we request you to whitelist our website in your adblocking plugin.