ভারতে অনুষ্ঠিত হওয়া ২০২৩ বিশ্বকাপে ছিল রেকর্ড আর বিস্ময়ের ছড়াছড়ি। গ্ল্যান ম্যাক্সওয়েলের ইঞ্জুরি নিয়ে ২০১ রানের দানবীয় ইনিংস কিংবা সব ম্যাচ জিতে ফাইনালে উঠে হেরে যাওয়া ভারত সবই ছিল দর্শকদের জন্য রোলারকোস্টার রাইডের মতই। ওয়ানডে বিশ্বকাপের ১৩তম আসরে ষষ্ঠ বারের মত চ্যাম্পিয়ন হয়েছে অস্ট্রেলিয়া। দেশের মাটিতে ফাইনাল হেরে মুদ্রার উলটো পিঠ দেখেছে রানার্সআপ ভারত।
২০২৩ বিশ্বকাপে বেশ কিছু দুর্দান্ত ব্যাটিং ইনিংস দেখেছে ক্রিকেট বিশ্ব।
![]() |
| বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারীরা |
২০২৩ বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ রান করেছেন ভারতীয় ব্যাটসম্যান ভিরাট কোহলি। ৯০ স্ট্রাইকরেটে ৬৮টি চার আর ৯ টি ছক্কায় ১১ ম্যাচে করেছেন ৭৬৫ রান। শতক হাঁকিয়েছেন ৩ টি এবং অর্ধশতক ৬টি। আর এই দুর্দান্ত পার্ফর্মেন্স দিয়ে আদায় করে নিয়েছেন প্লেয়ার অফ দ্যা টুর্নামেন্ট এর সম্মানও।
765 runs, one wicket and countless records after! 👊Virat Kohli emerges as the #CWC23 Player of the Tournament 🤩Read more 👉 https://t.co/Dhj0gQFSfx pic.twitter.com/5U6uXhGbB2— ICC Cricket World Cup (@cricketworldcup) November 19, 2023
তালিকায় ২য় স্থানে রয়েছে ১১ ম্যাচে ৫৯৭ রান করা কোহলির সতীর্থ রোহিত শর্মা। ১২৫ স্ট্রাইকরেটে টুর্নামেন্টে এক খেলোয়াড় হিসেবে সর্বোচ্চ ৩১টি ছয় ও ৬৬ টি চার মেরেছেন তিনি। সেঞ্চুরি করেছেন ১টি ও হাফ সেঞ্চুরি ৩টি। তার খুব কাছাকাছি ৫৯৪ রান করেছেন দক্ষিন আফ্রিকার উইকেট কিপার ব্যাটসম্যান কুইন্টন ডি কক। ১ ম্যাচ কম খেলেই ১০ ম্যাচে ৪ সেঞ্চুরির সাহায্যে ৫৭ চার ও ২১ ছক্কা হাঁকিয়েছেন তিনি। ১০ ম্যাচে ৫৭৪ রান করে নিউজিল্যান্ডের রচিন রবীন্দ্র আছেন তালিকার চতুর্থ অবস্থানে। ৩ টি শতক ও ২ টি অর্ধশতকসহ ১০৬ স্ট্রাইকরেটে ছয় হাঁকিয়েছেন ১৭ টি আর চার ৫৫ টি।
তারই সতীর্থ ড্যারিল মিচেল ১১১ স্ট্রাইকরেটে ৫৫২ রান করে আছেন ৫ম অবস্থানে। ৪৮টি চার ও ২২ টি ছয় মেরেছেন, অর্ধশতক হাঁকিয়েছেন ২টি আর শতক ২টি।
২০২৩ বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ৩১টি ছয় মেরেছেন ভারতের রোহিত শর্মা। তারপরেই ২৪ টি করে ছয় মেরেছেন অস্ট্রেলিয়ার ডেভিড ওয়ার্নার ও ভারতের শ্রেয়াস আইয়ার। চতুর্থ ও পঞ্চমে আছেব ২২ টি করে ছয় মারা অস্ট্রেলিয়ার গ্ল্যান ম্যাক্সওয়েল ও নিউজিল্যান্ডের ড্যারিল মিচেল।
![]() |
| এক ইনিংসে সর্বোচ্চ রান ও টুর্নামেন্টে সবচেয়ে বেশি ছক্কা মেরেছেন যারা |
এক ইনিংসে সর্বোচ্চ রান করার তালিকায় সবার প্রথমে আছেন বিশ্বকাপে দ্বিশতক হাঁকানো গ্ল্যান ম্যাক্সওয়েল। আফগানিস্তানের বিপক্ষে ইঞ্জুরি নিয়েই খেলেছিলেন অপরাজিত ২০১ রানের দানবীয় এই ইনিংস। দ্বিতীয় অবস্থানে ১৭৭ রান নিয়ে ড্যারিল মিচেল ও তৃতীয় ডি কক ১৭৪ রান করে। চতুর্থ ও পঞ্চম অবস্থানে যথাক্রমে ১৬৩ রান করা ড্যাভিড ওয়ার্নার ও ১৫২ রান করা নিউজিল্যান্ডের ব্যাটসম্যান কনওয়ে।
সবচেয়ে বেশি ৪টি শতক হাঁকিয়েছেন ডি কক। ৩ টি করে শতক করেছেন কোহলি ও রচিন রবীন্দ্র।
![]() |
| সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী |
বোলিং এ ২৪ উইকেট নিয়ে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী ভারতের মোহাম্মদ শামী। ২৩ উইকেট নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে আছেন অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডম জাম্পা। শ্রীলঙ্কার মাধুশানাকা ২১ উইকেট নিয়ে আছে তৃতীয় অবস্থানে। ২০ উইকেট নিয়ে চতুর্থ ও পঞ্চম অবস্থানে আছেন যথাক্রমে ভারতের জশপ্রীত বুমরাহ ও দক্ষিন আফ্রিকার কোটজি।
![]() |
| সেরা ইকোনমি রেট |
ওভারপ্রতি গড়ে সবচেয়ে কম রান দিয়েছেন ভারতের রবীচন্দ্র অশ্বীন। ওভারপ্রতি তার খরচ ৩.৪০ রান। ৪.০৬ ইকোনমি রেট নিয়ে দ্বিতীয় জশপ্রীত বুমরাহ। তৃতীয় অবস্থানে আছেন আফগানিস্তানের মোহাম্মদ নবী। তার খরচ ৪.১৩ রান। ৪.১৫ রান দিয়ে চতুর্থ দক্ষিন আফ্রিকার মাহেরাজ। পঞ্চমে ৪.২১ রান দিয়ে ভারতের রবীন্দ্র জাদেজা।
ব্যাটসম্যানকে বিভ্রান্ত করা থেকে শুরু করে দ্রুত ক্যাচ ধরা, স্ট্যাম্পিং করা উইকেট কিপারদের ক্ষিপ্রতা একটা ম্যাচের মোড় যে কোন সময়েই ঘুরিয়ে দিতে পারে।
![]() |
| সেরা উইকেটরক্ষক |
উইকেটের পেছনে সচেয়ে দূর্দান্ত ছিলেন ২০টি স্ট্যাম্পিং নিয়ে ডি কক। ১৭ টি নিয়ে দ্বিতীয় ভারতের কেএল রাহুল। তৃতীয়তে ১৬ টি স্ট্যাম্পিং নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ইংলিশ এবং চতুর্থতে ১৫ টি নিয়ে নেদারল্যান্ডস এর এডওয়ার্ড। পঞ্চমে আছেন ১১ টি স্ট্যাম্পিং করা ইংল্যান্ডের জশ বাটলার।
সবচেয়ে বেশি ১১টি ক্যাচ ধরেছেন ড্যারিল মিচেল। ৮ টি করে ক্যাচ ধরেছেন অস্ট্রেলিয়ার লাবুশানে ও ডেভিড ওয়ার্নার। ৭ টি করে ক্যাচ ধরেছেন ডেভিড মিলার ও রবীন্দ্র জাদেজা।
২০২৩ বিশ্বকাপে বিভিন্ন দেশের প্লেয়াররা দুর্দান্ত থাকলেও নিষ্প্রভ ছিলেন বাংলাদেশের খেলোয়াড়েরা। সর্বোচ্চ রান, উইকেট কিংবা ক্যাচিং কোন কিছুর তালিকায়ই নেই বাংলাদেশের কেউ। বরং সাকিব-তামিম দ্বন্দে বাংলাদেশের বিশ্বকাপটা ছিল কলংকিত। ২০২৪ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের খেলোয়াড়েরা নিজেদের সর্বোচ্চটা দিবে এই আশায় দেশবাসী।