যুক্তরাজ্যের নতুন ভিসা নীতি অনুযায়ী, বিদেশি শিক্ষার্থী ও দক্ষ কর্মীদের দেশটিতে প্রবেশের সুযোগ কমিয়ে দেওয়া হবে। এ নীতির ফলে, কাজের ভিসা পেতে হলে বিদেশি কর্মীদের ন্যূনতম বেতনের পরিমাণ বাড়ানো হবে এবং বিদেশি শিক্ষার্থীদের পরিবারের সঙ্গীদের নিয়ে আসার সুবিধা সীমাবদ্ধ করা হবে। এখন থেকে যুক্তরাজ্য শুধুমাত্র দক্ষ কর্মীদেরকেই ভিসা প্রদান করবে।
![]() |
| যুক্ত্রারাজ্যে ভিসা কড়াকড়ি ছবি: ইন্টারনেট |
প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাকের নেতৃত্বে যুক্তরাজ্য সরকার দেশটিতে অভিবাসীদের সংখ্যা সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে আসার জন্য নিন্দা করা হচ্ছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২২ সালে যুক্তরাজ্যে প্রায় ৭.৪৫ লাখ অভিবাসী এসেছেন। এটি যুক্তরাজ্যের রাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে ওঠেছে। অভিবাসীদের এই চাপ মোকাবেলা করতে সরকার সচেষ্ট হয়েছে। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জেমস ক্লেভারলি বলেছেন, দক্ষ বিদেশি কর্মীদের ভিসা পেতে হলে তাদের ন্যূনতম ৩৮ হাজার ৭০০ পাউন্ড আয় করতে হবে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫৩.৮১ লাখ টাকা (আজকের হিসেবে ১ পাউন্ড সমান ১৩৯.০৬ টাকা)। এবং বর্তমানে এ আয়ের সীমা ২৬ হাজার পাউন্ড। যুক্তরাজ্যের নতুন পরিকল্পনায় আরও কী কী রয়েছে
বিদেশি সেবাকর্মীদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আসার সুবিধা বাতিল করা এবং ভিসা স্পনসর হতে চাইলে ইংল্যান্ডের কেয়ার ফার্মগুলোকে কেয়ার কোয়ালিটি কমিশনের অনুমোদন নিতে হবে। নতুন নীতির প্রভাবে, ২০২৪-২৫ সালের মধ্যে এ নিয়মে ২০ শতাংশ অভিবাসী কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।
দক্ষ কর্মী ভিসায় যাওয়া বিদেশিদের বার্ষিক আয় ন্যূনতম এক-তৃতীয়াংশ বৃদ্ধি করে ৩৮ হাজার ৭০০ পাউন্ড হবে। ঘাটতি পেশাগুলোর জন্য ২০ শতাংশ বেতন ছাড়ের অবসান করা এবং ঘাটতি পেশার তালিকা সংস্কার করে কম খরচে বিদেশি কর্মী নেওয়া বা বাতিল করা।
ফ্যামিলি ভিসার জন্য দক্ষ কর্মীদের ন্যূনতম আয়ের (৩৮ হাজার ৭০০ পাউন্ড) দ্বিগুণ আয় থাকা। বিদেশি শিক্ষার্থীদের পরিবারের সদস্যদের যুক্তরাজ্য প্রবেশের ক্ষেত্রে নিয়ম কঠোর করা। তবে এর জন্য স্নাতক রুট উপদেষ্টা কমিটি পর্যালোচনা করবে। আর এসব সিদ্ধান্ত আগামী বছরের শুরুর দিকে কার্যকর হবে।
এই নীতির উদ্দেশ্য হলো, যুক্তরাজ্যে অভিবাসীদের সংখ্যা কমিয়ে দেশের অর্থনীতি, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক স্থিতি উন্নত করা। তবে, এই নীতির প্রতিক্রিয়া সবাই থেকে পেয়েছে না। কিছু বিশ্ববিদ্যালয়, ব্যবসা ও সেবা সংস্থা এই নীতির বিরুদ্ধে আপত্তি জানিয়েছে। তারা বলেছে, এই নীতি দেশের শিক্ষা, বিজ্ঞান, কৌশল ও স্বাস্থ্য খাতে ক্ষতি ঘটাবে। এছাড়া, এই নীতি দেশের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।