ফাইভার হলো একটি ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস যেখানে নতুন বা অভিজ্ঞ ফ্রিল্যান্সাররা তাদের প্রতিভা ও দক্ষতা অনুযায়ী কাজ করে আয় করতে পারেন। এখানে ফ্রিল্যান্সারদের সেলার এবং ক্লায়েন্টদের বায়ার বলা হয়। বায়াররা তাদের প্রয়োজনীয় কাজ সেলারদের কাছ থেকে কিনতে পারেন এবং সেলাররা তাদের কাজের জন্য মূল্য নির্ধারণ করেন।
![]() |
| ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস ফাইভার |
ফাইভারে কাজ করার জন্য সেলারদের কোনো প্রাক-পরিশোধ করতে হয় না। তবে ফাইভার সেলারদের ইনকামের ২০% টাকা কেটে নেয় বায়ার এবং সেলারদের মধ্যে সমন্বয় রাখার জন্য। ফাইভার সেলার এবং বায়ারদের কাছে নির্ভরযোগ্য এবং নিরাপদ মার্কেটপ্লেস হিসেবে পরিচিতি অর্জন করেছে। ফাইভার শুরু হয়েছিল ৫ ডলার মার্কেটপ্লেস হিসেবে, কিন্তু পরে তার নাম পরিবর্তন হয়ে গেছে ফাইভার। এখন ফাইভারে সেলাররা তাদের কাজের মূল্য নিজেরা ঠিক করতে পারেন।
ফাইভার একটি জনপ্রিয় ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস যেখানে ফ্রিল্যান্সাররা তাদের কাজের বিভিন্ন প্যাকেজ বা গিগ বিক্রি করে আয় করতে পারেন। ক্লায়েন্টরা তাদের প্রয়োজনীয় কাজ সেলারদের কাছ থেকে কিনতে পারেন এবং সেলাররা তাদের কাজের মান, মূল্য, সময়, সীমা ইত্যাদি নির্ধারণ করেন।
১. ফাইভারে ফ্রিল্যান্সাররা তাদের কাজের পরিমাণ ও ধরন অনুযায়ী কয়েকটি প্যাকেজ তৈরি করে বিক্রি করতে পারেন। প্রতিটি প্যাকেজে তারা তাদের কাজের বিবরণ, মূল্য, ডেলিভারি সময়, রিভিশন সংখ্যা ইত্যাদি উল্লেখ করেন। ক্লায়েন্টরা তাদের চাহিদার মতো প্যাকেজ সিলেক্ট করে সেলারদের সাথে কাজ শুরু করতে পারেন।
২. ফাইভারে নতুন ফ্রিল্যান্সারদের জন্য সুযোগ রয়েছে কাজ পেতে। ফাইভার নতুন ফ্রিল্যান্সারদের গিগগুলোকে সার্চ রেজাল্টের শীর্ষে দেখানোর চেষ্টা করে। এতে করে নতুন ফ্রিল্যান্সাররা ক্লায়েন্ট আকর্ষণ করতে পারেন এবং কাজ পেতে পারেন।
৩. ফাইভারে রেটিং ও রিভিউ সিস্টেম রয়েছে যা ক্লায়েন্ট ও ফ্রিল্যান্সারদের কাছে বিশ্বস্ততা ও মান নিশ্চিত করে। ফ্রিল্যান্সাররা তাদের কাজের মান অনুযায়ী ৫ স্টার এবং লেভেল ১,২ ইত্যাদি রেটিং পেতে পারেন। ক্লায়েন্টরা তাদের কাজের সন্তুষ্টি অনুযায়ী ফ্রিল্যান্সারদের রিভিউ দিতে পারেন। এই রেটিং ও রিভিউ থেকে ক্লায়েন্ট ও ফ্রিল্যান্সাররা একে অপরের সম্পর্কে একটা ধারণা পেতে পারেন।
৪. ফাইভারে কাস্টম অর্ডারের ব্যবস্থা রয়েছে যা ক্লায়েন্ট ও ফ্রিল্যান্সারদের কাজের পরিধি ও মূল্য নির্ধারণে সহায়তা করে। ক্লায়েন্টরা যদি ফ্রিল্যান্সারদের গিগের চেয়ে বেশি বা অন্য কোনো কাজ করাতে চান, তাহলে তারা কাস্টম অর্ডার রিকোয়েস্ট করতে পারেন। ফ্রিল্যান্সাররা তাদের কাজের মূল্য, সময়, রিভিশন ইত্যাদি নির্ধারণ করে কাস্টম অর্ডার অ্যাকসেপ্ট করতে পারেন।
৫. ফাইভারে ফ্রিল্যান্সাররা একই সময়ে অনেকগুলো অর্ডার নিতে পারেন। এতে করে তারা তাদের আয় বাড়াতে পারেন।
৬. ফাইভারে ফ্রিল্যান্সারদের জন্য বিনামূল্যে কোর্স রয়েছে যা তাদের কাজের দক্ষতা বাড়াতে সাহায্য করে। এই কোর্সগুলো ফাইভারের নিজস্ব কোর্স যা ফ্রিল্যান্সাররা ফাইভারের ওয়েবসাইটে পেয়ে যাবেন। এই কোর্সগুলো ফ্রিল্যান্সারদের কাজের মান, ক্লায়েন্ট সার্ভিস, প্রফাইল তৈরি, গিগ অপ্টিমাইজেশন, মার্কেটিং ইত্যাদি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়।
৭. ফাইভারে পেমেন্ট গেটওয়ে হিসেবে পেওনিয়ার ব্যবহার করা যায় যা বাংলাদেশে সহজেই টাকা উত্তোলনের সুবিধা দেয়।
৮. ফাইভারে ফ্রিল্যান্সাররা তাদের মূল কাজের পাশাপাশি অন্যান্য কাজ করতে পারেন। ফাইভারে একজন ফ্রিল্যান্সার সর্বোচ্চ ৭ টি গিগ তৈরি করতে পারেন। এতে করে তারা তাদের কাজের ব্যাপ্তি বাড়াতে পারেন।
তবে ফাইভারের কিছু সমালোচনা ও রয়েছে। কিছু লোক বলেন ফাইভার ক্লায়েন্টদের কাছে বেশি প্রাধান্য দেয়। ক্লায়েন্টদের জন্য ফাইভার বেশি সুবিধা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। কিন্তু এটা সত্য যে ক্লায়েন্টরা যদি সুবিধা ও নিরাপত্তা পান, তাহলে তারা মার্কেটপ্লেসে আসবেন এবং ফ্রিল্যান্সাররা কাজ পাবেন। তাই ফ্রিল্যান্সাররা যদি কিছু অসুবিধা সহ্য করেন, তার পরেও ফাইভারে কাজ করতে পারেন।